Twitter

Follow palashbiswaskl on Twitter

Memories of Another day

Memories of Another day
While my Parents Pulin babu and Basanti devi were living

Saturday, May 16, 2015

Sanjoy Dey অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা দীক্ষা


অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতা ও গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা দীক্ষা 
===============================
একবার প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন আমি আমাদের কোম্পানিরই একটা চা বাগানে গিয়েছিলাম I চা বাগানে প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে বাগানবাসী ছেলে-মেয়েদের জন্য নানা ধরনের খেলাধুলার আয়োজন করা হয়েছে I বিভিন্ন খেলাধুলার মধ্যে একটি খেলা হচ্ছে অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতা I এই খেলার নিয়ম হচ্ছে বিভিন্ন শ্রেনীর প্রতিযোগীদের উপযোগী দুই/তিন সারির যোগ অঙ্ক ছোট ছোট কাগজে লিখে প্রত্যেক প্রতিযোগীর হাতে দেওয়া হবে I প্রতিযোগীদের মধ্যে যে অঙ্কটি শুদ্ধ করে দৌড়ে মাঠের অপর প্রান্তে দন্ডায়মান বিচারকের কাছে পৌছতে পারবে, সে-ই হবে প্রথম, তারপর যে পৌছাবে সে দ্বিতীয় আর তারপর তৃতীয় I এ ভাবেই প্রতিযোগীদের মান নির্ণয় করে পুরস্কার বিতরণ করা হবে I

দুর্ভাগ্যত: আমি ছিলাম ওই দিনের অঙ্ক দৌড় প্রতিযোগিতার একজন বিচারক I বিচারক হিসেবে জানুয়ারী মাসের কড়া রোদের মধ্যে মাঠের অপর প্রান্তে দাড়িয়ে রয়েছি, প্রায় আধ ঘন্টা কেটে গেছে একজন প্রতিযোগীও অঙ্ক নিয়ে মাঠের ঐ প্রান্ত থেকে আর আসে না I অথচ মাঠের এ প্রান্ত থেকে স্পষ্ঠ দেখতে পাচ্ছি প্রতিযোগীরা লাইন ধরে বসে মাথা গুজে অঙ্ক কষছে I প্রায় চল্লিশ মিনিট পর দেখতে পেলাম মাত্র দুইজন অঙ্কটি দেখতে দেখতে আমার দিকে এগিয়ে আসছে i প্রথম ও দ্বিতীয় দুইজনের কাছ থেকে অঙ্কের কাগজটি নিলাম, দেখলাম দুইজনের যোগই ভুল I তারপর ঝাঁকে ঝাঁকে প্রতিযোগীরা অঙ্কের কাগজ নিয়ে আমার দিকে ধেয়ে আসতে লাগলো I আমিও শৃঙ্খলার সাথে এদের কাছ থেকে ক্রমান্বয়ে কাগজগুলো নিতে থাকলাম I প্রায় ৫০ টি প্রতিযোগীর কাগজ আমার হাতে জমা হলো I কিন্তু কারো অঙ্কই শুদ্ধ নয় I সবকটি উত্তরই ভুল I

এখন সমস্যা হলো, পুরস্কার প্রদান করা হবে কিভাবে ?

অবশেষে খেলাধুলার দায়িত্বে থাকা বাগানবাবুকে ব্যাপারটি জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন-- অঙ্ক'র ব্যাপারটা ছাড়ি দেইন, যেগু দৌড়িয়া পয়লা আপনার ধারো আইছে, প্রথম পুরস্কার হিসাবে অগুর নাম, তারপরে যে আইছে দ্বিতীয় পুরস্কার হিসাবে হিগুর নাম লেখিয়া রাখৈন I

এই হচ্ছে আসামের বাগান অঞ্চলের শিক্ষা-দীক্ষার হাল i বাগান অঞ্চলের যেকোন শিক্ষার্থীকে যদি প্রশ্ন করা হয় তিন আর দুইয়ে কত ? তারা তার উত্তরে বলবে পাঁচ i কিন্তু তারপর যদি আবার বলা হয়ে দুই আরে তিনে কত ? তার উত্তরে ওরা হয় নিচের দিকে তাকাবে, নয়ত দৌড়ে পালাবে I এই হচ্ছে গ্রামাঞ্চল আর বাগান অঞ্চলের শিক্ষার মান I অথচ এসব অঞ্চলে স্কুল আর শিক্ষকের কোন অভাব নেই i প্রত্যেক বাগানেই কম বেশি ১০ টার মত বিদ্যালয় আছে, ৫০ জনের মত সরকারী বেতনভোগী শিক্ষকও আছেন, অথচ এরা কি করছেন, তা দেখার কেউ নেই I

গ্রামাঞ্চল বা বাগান অঞ্চলের যে কোন শিক্ষককে যদি প্রশ্ন করা হয়, আপনাদের স্কুলের ছাত্রদের গুণগত মান কেমন ? উত্তর হলো - "না, না, ইতার মত মাতোইন না যেন, সব কয়টা গর্দভ, সেভেনও পড়ে, কিন্তু নিজর নাম লেখত পারে না I " এই বক্তব্য শুনার পর ছাত্র গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা বুঝতে কোন অসুবিধা হওয়ার কথা নয় I লেখাপড়ার মূল কাঠামো সংস্কার না করে সর্বশিক্ষার এই যে অসার ধাপাদাপি তার পরিনাম ও প্রতিক্রিয়া কিন্তু পর্বতের মূষিক প্রসবের নামান্তর হতে বাধ্য I

No comments:

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...