Twitter

Follow palashbiswaskl on Twitter

Memories of Another day

Memories of Another day
While my Parents Pulin babu and Basanti devi were living

Thursday, June 20, 2013

তিন সাগরের মেঘ ধুয়ে দিল চার ধাম

তিন সাগরের মেঘ ধুয়ে দিল চার ধাম

তিন সাগরের মেঘ ধুয়ে দিল চার ধাম
কমলেশ চৌধুরী

বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, ভূমধ্যসাগর --- তিন সাগরের মেঘের জোটে বিপর্যস্ত চার ধাম৷ যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ, বদ্রীনাথ৷ খণ্ড খণ্ড পাথরের স্রোত নেমেছে উত্তরাখণ্ডে৷ পাথরে ঢাকা পড়েছে শঙ্করাচার্যের সমাধি৷ ধস ক্ষয় ধরিয়েছে কেদার মন্দিরেও৷ আটক বহু পর্যটক৷ বর্ষার শুরুতেই এমন প্রায় নজিরবিহীন বিপর্যয় কেন ?উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিন সাগরের 'হাত' পেয়েছেন আবহবিদরা৷ আবহবিজ্ঞানী গণেশকুমার দাসের কথায় , 'গত সপ্তাহে যে নিম্নচাপটি এ রাজ্যে বৃষ্টি দিয়েছে, সেটি রবিবার নাগাদ মধ্য ভারত পেরিয়ে আরও পশ্চিম দিকে সরে যায়৷ তার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর তো বটেই, আরব সাগর থেকেও জলীয় বাষ্প ঢুকেছে উত্তর ভারতে৷ গুজরাট -রাজস্থানের উপর থাকা একটি ঘূর্ণাবর্তও আরব সাগর থেকে জলীয় বাষ্প টেনেছে৷ এর মধ্যে জম্মু-কাশ্মীরের উপর একটি পশ্চিমি ঝঞ্ধা চলে আসে৷ জোলো বাতাস জুগিয়ে গিয়েছে সেটিও৷' পশ্চিমি ঝঞ্ধার 'জঠর ' ভূমধ্যসাগর৷ সেখান থেকে ইরান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান হয়ে কাশ্মীরে ঢোকে এই 'এক্সট্রাট্রপিক্যাল স্টর্ম'৷

মূলত, শীতকালেই ঝঞ্ঝার আনাগোনা বেশি থাকলেও, জুনে তার আগমন একেবারে অস্বাভাবিক নয়৷

ঘটনা হল, এতগুলি প্রাকৃতিক অবস্থা কাছাকাছি চলে আসায় ঝেঁপে বৃষ্টি নামা ছিল স্রেফ সময়ের অপেক্ষা৷ আর সেটাই হয়েছে৷ রবিবার ২৪ ঘণ্টায় দেরাদুনে বৃষ্টি হয়েছে ৩৭০ মিলিমিটার (গোটা জুন মাসে কলকাতায় বৃষ্টি হয় গড়ে ২৮৩ মিলিমিটার)৷

উত্তরাখণ্ডের রাজধানীতে জুনে একদিনে এতটা বৃষ্টি (আগের রেকর্ড: ১৮৮ মিলিমিটার, ২৮ জুন , ১৯২৫) আগে কখনও হয়নি৷ উত্তর কাশী, হরিদ্বারেও ২০০ থেকে ২৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে৷ কম-বেশি বৃষ্টি হয়েছে পরের দু'দিনও৷ বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা 'স্কাইমেট'-এর মুখ্য আবহবিদ মহেশ পালওয়াতের কথায়, 'প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকে পড়ায় দিল্লি , হরিয়ানা, পঞ্জাব সর্বত্র বৃষ্টি হয়েছে৷ উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ সেহেতু পাহাড়ঘেরা, তাই এখানে জলীয় বাষ্প একবার ঢুকে পড়লে আর বেরোনোর জায়গা পায় না৷ তখন তা পাহাড়ের গা বেয়ে উঠে যায়৷ ঠান্ডা হয়ে মেঘে জমাট বাঁধে৷ এক্ষেত্রেও তাই হয়েছে৷ আবার পরিমণ্ডলের উপরিস্তরে বাতাসের গতিবেগ বেশি না -থাকায় মেঘ খুব একটা নড়াচড়া করতে পারেনি৷ ছোট জায়গাতেই প্রায় ১২-১৫ কিলোমিটার উঁচু উল্লম্ব মেঘ ভেঙে (ক্লাউড বার্স্ট) পড়েছে৷ ' সমতল হলে ওই বৃষ্টির জলে বড়জোর দিনকয়েক জলমগ্ন থাকত সংশ্লিষ্ট এলাকা ও আশপাশের অঞ্চল৷ কিন্ত্ত পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় মেঘ -ভাঙা জল সামনে যা পেয়েছে , তা-ই ভাসিয়ে নীচের দিকে ছুট দিয়েছে৷ নেমেছে হড়কা বান৷ ক্ষতির খতিয়ান তাই এত বেশি৷

যদিও ক্ষতির অতীত ভুলে ভবিষ্যতের পথে এগোতে চাইছে চার ধাম৷ প্রকৃতি সঙ্গ দেবে তো? মহেশবাবু জানিয়েছেন , পশ্চিমি ঝঞ্ঝাটি পূর্ব দিকে সরে গিয়েছে৷ দুর্বল হয়ে মৌসুমি অক্ষরেখায় মিশে গিয়েছে নিম্নচাপটিও৷ ফলে অন্তত ২৫ জুন পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা প্রায় নেই৷ তার পর অক্ষরেখার প্রভাবে নতুন করে বৃষ্টি শুরু হতে পারে৷ তত দিন নির্বিঘ্নে চলতে পারে উদ্ধারকাজ৷ আটকে যাওয়া বাঙালি পর্যটকদের পরিবার তাই নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন , আশ্বস্ত করছে হাওয়া অফিস৷

বাংলার বরাতে কী আছে ? আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি অক্ষরেখা বহরমপুরের উপর দিয়ে যাওয়ায় উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গেও হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলবে৷ ৷

No comments:

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...