Twitter

Follow palashbiswaskl on Twitter

Memories of Another day

Memories of Another day
While my Parents Pulin babu and Basanti devi were living

Saturday, June 22, 2013

মহামিছিলে বার্তা শাসককে

মহামিছিলে বার্তা শাসককে

মহামিছিলে বার্তা শাসককে
মণিপুষ্পক সেনগুপ্ত ও কৌশিক সরকার 

শাসক বলল, 'চোপ!' গর্জে উঠল মহানগর৷ 

সাত বছর আগে নন্দীগ্রাম পুনর্দখলের পর রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পথে নেমে এসেছিলেন শঙ্খ ঘোষ৷ এ দিন ফের তাঁর ডাকেই পথে নামলেন শহরের বহু বিশিষ্ট মানুষ৷ কামদুনি-সহ রাজ্যের নানা প্রান্তে বাড়তে থাকা নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের প্রতিবাদে শুক্রবারের সেই মিছিল কার্যত মহামিছিলের রূপই নিল বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে৷ মিছিলে অশোক মিত্র, শঙ্খ ঘোষ, সমরেশ মজুমদারদের পাশেই হেঁটেছেন কয়েক হাজার সাধারণ মানুষ৷ যাদের অধিকাংশই ছাত্রছাত্রী৷ তবে সরকার পরিবর্তনের ডাক নয়, সরকারকে সতর্ক হওয়ার বার্তাই পাঠানো হল এই মিছিল থেকে৷ ২০০৭ সালে ৩০ বছরের পুরোনো বামফ্রন্ট সরকারের বিরুদ্ধে ১৪ নভেম্বরের সেই মহামিছিলের স্মৃতি উস্কে দিয়ে এ দিন ফের সেই একই পথে জনজোয়ার নিঃসন্দেহে অস্বস্তি বাড়াবে বর্তমান সরকারের৷ 

শুক্রবারের মিছিলে পা মিলিয়েছে কামদুনি৷ ছিল গেদে৷ ছিল সুটিয়াও৷ যে লজ্জার ঘটনাগুলির বিহিত চাইছেন রাজ্যের মানুষ৷ অপরাজিতার ধর্ষণ ও খুনের প্রতিবাদে তাঁর পরিবারকে চাকরি ও অর্থ সাহায্যের দাবি ফিরিয়ে দিয়েছিল কামদুনি৷ দোষীর চরম শাস্তির দাবিতেই সোচ্চার হয়েছে সেই জনপদ৷ নন্দীগ্রাম পুনর্দখলের পর মহাকরণের অলিন্দে দাঁড়িয়ে তত্‍কালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বলেছিলেন 'দে হ্যাভ বিন পেড ব্যাক বাই দেয়ার ওন কয়েন৷' ১৪ নভেম্বরের মিছিলের সাফল্যের অন্যতম কারণ ছিল শাসকের সেই নির্মম ঔদ্ধত্যের প্রতিবাদ৷ আর সোমবার কামদুনিতে দাঁড়িয়ে টুম্পা, মৌসুমির মত প্রতিবাদী মহিলাদের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী যে ভাবে রক্তচক্ষু দেখিয়েছেন তা যে সাধারণ মানুষ ভালো চোখে দেখেনি, এ দিনের মিছিলের দৈর্ঘ্যই তা প্রমাণ করে দিল৷ 

বিদ্বজ্জনেদের আহ্বানে এ দিনের মিছিলে সামিল ছিলেন রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, সুমন মুখোপাধ্যায়, স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়, তরুণ স্যান্যাল, তরুণ মজুমদার, সব্যসাচী চক্রবর্তী, অমিত চৌধুরী, সমরেশ মজুমদার, দেবেশ রায়, ওয়াসিম কাপুরের মতো অনেকে৷ শারীরিক অসুস্থতার কারণে আসতে না পারলেও, মিছিলের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বার্তা পাঠিয়েছিলেন মৃণাল সেন৷ হাঁটতে দেখা গিয়েছে সিপিএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, কংগ্রেস নেতা নির্বেদ রায়কেও৷ ছিলেন অসীম চট্টোপাধ্যায়, আজিজুল হক, চন্দন সেন, সমীর আইচের মতো অনেক পরিচিত সরকার-বিরোধী মুখ৷ এঁদের অনেকেই ১৪ নভেম্বরের মিছিলে হাঁটেননি৷ সে দিনের মিছিলের হাঁটা বহু পরিচিত মুখ এবং বর্তমানে তৃণমূল সরকারের তীব্র সমালোচককেও কিন্তু দেখা যায়নি এ দিনের মিছিলে৷ কামদুনির পাশে দাঁড়াতে বৃহস্পতিবার কলেজ স্কোয়্যারের প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন অপর্ণা সেন, কৌশিক সেন, বিভাস চক্রবর্তী, সুনন্দ সান্যালের মতো আরও অনেকে৷ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনাগুলি সরকার উপযুক্ত ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় ক্ষোভ ও বিরক্তি তীব্র ভাষায় ব্যক্ত করেছিলেন তাঁরা৷ কিন্তু এ দিনের মিছিল এড়িয়ে গিয়েছেন৷ 

কলেজ স্ট্রিট থেকে মেট্রো চ্যানেল পর্যন্ত এ দিন মিছিলের বার্তা অভিন্ন হলেও পথের নানা প্রান্তে ছিল নানা রং৷ কোথাও মধ্যবয়সীরা গাইছেন 'ব্যর্থ প্রাণের আবর্জনা পুড়িয়ে ফেলে আগুন জ্বালো' তো কোথাও একঝাঁক তরণ-তরুণী সুর ধরেছেন 'উই শ্যাল ওভারকাম'৷ কোথাও প্রতিবাদী কোনও মহিলা স্লোগান তুলেছেন 'হল্লা বোল', কোথাও নীরবে হেঁটে চলেছেন প্রবীণ দম্পতি৷ হাঁটতে হাঁটতে নাট্য পরিচালক সুমন মুখোপাধ্যায় যেমন বললেন, 'মানুষের রায়ে নির্বাচিত হয়ে সরকার কী করে মানুষের ভাষাকে, মানুষের দাবিকে অস্বীকার করছে?' মৃণাল সেন যেমন চিঠিতে লিখেছেন, 'সংযত হোক সরকার, না হলে ভবিষ্যতে আরও জোরালো হবে প্রতিবাদ৷' সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের স্ত্রী স্বাতী গঙ্গোপাধ্যায়ের বক্তব্য, 'আমার কারও বিরুদ্ধে কিছু বলার নেই৷ আমি এসেছি শুধু ওই মেয়েটির পাশে দাঁড়াতে৷' ১৪ নভেম্বরের মিছিলকে পাশ কাটিয়ে গিয়েছিলেন সুবোধ সরকার৷ এ দিন তাঁর উপলব্ধি, 'এখন মনে হয় নন্দীগ্রামের পরের মিছিলেও হাঁটার প্রয়োজন ছিল৷' সমীর আইচ জানান, 'যা করছি, সেটাই স্বাভাবিক৷ না এলেই অপরাধী মনে হত নিজেকে৷' অভিনেতা চন্দন সেন জানান, 'সরকার বদলের দাবি তুলছি না৷ সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছি৷ আরও সক্রিয় হতে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি৷' অশক্ত শরীরে মিছিলে পা মিলিয়েছেন অশোক মিত্র৷ আগাগোড়া হেঁটেছেন শঙ্খ ঘোষও৷ আহ্বায়কদের অন্যতম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আসতে না পারলেও চিঠি লিখে তাঁর সমর্থন জানিয়েছেন৷ 

দু'বছরের এক সরকারের কাছে পাঠানো এই মিছিলের বার্তা যদি অস্বস্তির কারণ হয়, তবে এমন একটি ইস্যুতে এত মানুষের একজোট হওয়া প্রাথমিক ভাবে খানিক অক্সিজেন জোগাতে পারত রাজ্যের বিরোধীদের কাছে৷ কিন্তু, সে জো নেই৷ কারণ, এই 'মৌন মিছিল' থেকেই স্লোগান উঠেছে, 'তাপসী মালিকের ধর্ষণকারীরা বহাল তবিয়তেই ঘুরে বেড়াচ্ছে বিগত এবং বর্তমান জমানায়৷' মিছিলে যেমন মূর্ত হয়েছে গেদে, কামদুনি, সুটিয়া, তেমনই ফিরে ফিরে এসেছে সিঙ্গুর থেকে নন্দীগ্রাম৷ সে বিচারে এই মিছিল ছিল সরকারের বিরুদ্ধে নয়, শাসকের চরিত্রের বিরুদ্ধে৷ এ দিনের মিছিলে যেমন ছিলেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি, তেমনই ছিল নকশালপন্থী সংগঠন, বামফ্রন্টের কর্মী, সমর্থকরা, ছিলেন কংগ্রেস কর্মী, সমর্থকরাও৷ ছিল, ট্রান্স জেন্ডারদের সংগঠনও৷ 

নন্দীগ্রামের ঘটনার বিরুদ্ধে নাগরিক সমাজের আন্দোলনকে কটাক্ষ করেছিল বিগত শাসক বামফ্রন্ট৷ এ দিনের মিছিলকেও আক্রমণ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস৷ পঞ্চায়েতমন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, 'এটা হাফ সিপিএমের মিছিল নয়৷ ফুল সিপিএমের মিছিল৷' শিল্পমন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের প্রতিক্রিয়া, 'সাধারণ মানুষের দাবিতে সরকার যেখানে সাড়া দিচ্ছে, সেখানে এই মিছিল কেন? আসলে উন্নয়নের পথে সিপিএম যে কাঁটা বিছাতে চাইছে, আমার মনে হয় তাতে বুদ্ধিজীবীরাও সামিল হয়েছেন৷' ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, 'চৌত্রিশ বছরে যে অপরাধ ঘটে চলেছে, তার পরিবর্তন ঘটাতে রাজ্যের নতুন সরকারকে অন্তত চৌত্রিশ মাস সময় তো দিতে হবে৷' 

নন্দীগ্রামের পর সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদে নড়ে গিয়েছিল তিন দশকের বাম শাসনের ভিত৷ এ দিনের মিছিল কিন্তু সেই সতর্কবার্তাই পাঠালো দু'বছর বয়সি বর্তমান সরকারকে৷ 

No comments:

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...